আজ ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মাধবপুরের ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন সর্বত্র আলোচনার ঝর

 

 

হীরেশ ভট্টাচার্য্য হিরো:ঘুষের টাকা ফেরত দিয়ে আলোচনায় মাধবপুরের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। ঘুষ নিয়েও নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়ে টাকা ফেরত দিয়েছেন অনিয়ম ও দূর্নীতির বরপুত্র শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন।

 

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৮ আগষ্ট হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। যোগদানের পর থেকেই অনিয়ম ও দূর্নীতিকে আকড়ে ধরে অর্থ কামাই করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অফিস করতেন নিজের ইচ্ছেমতো। ছুটি না নিয়ে রাজধানী ঢাকায় দিনের পর দিন অবস্থান করা, স্কুল অডিটে না গিয়ে ভূয়া বিল ভাউচারে টিএ ডিএ উত্তোলন, শিক্ষকদের কাছ থেকে তেল খরচের টাকা আদায়, এমপিও ভূক্তি শিক্ষকদের ফাইল প্রেরনে, বিএডধারী শিক্ষকরা বেতন সুবিধা নিতে এমনকি এনটিআরসি (বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন) নিয়োগধারী শিক্ষকদের বেতন ভাতা ধরানোতেও টাকা আদায়ের মতো নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেনের অনিয়ম দূর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যে শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছানোয়ার মোঃ রেজাউল করিমের মতো কয়েকজনের সমন্বয়ে রয়েছে একটি বিশ্বস্ত সিন্ডিকেট। যাদের মাধ্যমে অর্থের আদান প্রদান হয়ে থাকে। শিক্ষা কর্মকর্তা ও তার অনিয়মে সহায়তাকারী সিন্ডিকেটের যন্ত্রনায় উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কেউ মুখ ফুটে কথা বলতে সাহস পায় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, নতুন এমপিও’র জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে ২-৩ হাজার টাকা, বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন প্রত্যয়ন (এনটিআরসি) ধরানোতে ২-৩ হাজার, চাকুরীর জীবনের ৮ বছর অতিক্রম করা শিক্ষকগন উচ্চতর স্কেল/গ্রেড পরিবর্তনে অনলাইনে আবেদনকপি জেলাতে পাঠাতে হলে সর্বনিম্ন ৩ হাজার এবং বিএড ধারীরা সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

 

তাছাড়া সরকারী পাঠ্যবই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌছে দিতে যাতায়াত খরচ বাবদ সরকারী বরাদ্দ থাকে। সেই বরাদ্দ স্কুলগুলোতে না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘুষ গ্রহনের চেয়ে সর্বাপেক্ষায় আলোচনায় এসেছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেওয়ার নামে ৮০ হাজার টাকা
ঘুষ নিয়ে ৭০ হাজার ফেরত দিয়ে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২৯ ডিসেম্ভর উপজেলার জগদীশপুর যোগেশ চন্দ্র হাইস্কুল এন্ড কলেজে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নৈশ প্রহরী ও আয়া নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই নিয়োগে জনৈক মাসুমাকে আয়া পদে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে তার সাথে চুক্তি করে ৮০ হাজার টাকা নেয়। শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে ছানোয়ার মোঃ রেজাউল করিমের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা লেনদেন হয়। চুক্তিমতো প্রশ্নপত্র ফাঁস করে মাসুমাকে ফাস্ট করানো হলেও নিয়োগ নিশ্চিত করতে পারেনি।

 

পরে ওই প্রার্থীর স্বামী চাপের মুখে চলতি বছরের ৭ আগষ্ট বিকালে ৭০ হাজার টাকা ফেরত দেয়। শুধু মাসুমা নয়, উপজেলার দরগা বাড়ী পৌর দাখিল মাদ্রাসা, আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল মাদ্রাসায় শিক্ষক, আয়া, পিয়ন, নাইটগার্ডসহ যেকোন পদে নিয়োগের প্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা লেনদেনের খবর পাওয়া গেছে। নিয়োগ বোর্ডে থাকার সুবাধে টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে চুক্তিতে আসা প্রার্থীকে পরীক্ষায় ফাস্ট করানো হয়। ঘুষের টাকার লেনদেনে এবং ফেরত দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষক ছানোয়ার মোঃ রেজাউল করিম অস্বীকার করে শিক্ষা কর্মকর্তার সাফাই গেয়েছেন।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, আমি সচ্ছতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারবো না, তবে আমি কারো কাছে যাইনা, কেউ এসে সহযোগিতা চাইলে আমি কি করব ? চাকুরীর প্রলোভনে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে ৭০ হাজার ফেরতের দেওয়ার প্রশ্ন করার সাথে সাথে তিনি প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিমকে মোবাইলে কল দিয়ে বিকালে উপজেলায় এসে দেখা করতে বলেন।

 

এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ মোবাইল ফোনে জানান, নিয়োগ বাণিজ্যেসহ কোন অনিয়ন করার সুযোগ নেই, যদি প্রমান
পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ