আজ ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

চা শ্রমিকদের নৌকার ভোট গেল ঈগলে

হীরেশ ভট্টাচার্য্য হিরো:হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসন চা শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। এ আসনে ছোট বড় মিলে মোট ২৪টি চা বাগান রয়েছে। ভোটের মাঠে চা বাগানের শ্রমিকরাই মূল ফ্যাক্টর বলে মনে করা হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারই প্রতিফলন হয়েছে বলে মনে করেন সুশীল সমাজের লোকজন।

 

এ আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত মুখ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল মার্কার প্রতিনিধি ব্যারিষ্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এড. মাহবুব আলী।

 

ভোটের দিন সরজমিন দেখা যায়, মাধবপুর-চুনারুঘাট চা বাগান ভোট কেন্দ্রগুলোতে নারী ও পুরুষ সবার বুকে নৌকার ব্যাজ ঝুলানো। এ সময় বেশ কয়েকজন চা শ্রমিকের সাথে আলাপ কালে তারা জানায়, চা বাগানে নৌকা ছাড়া কিছুই নাই। সে হিসেবে অনুমান করা হয়েছে সকল চা বাগান সেন্টারে নৌকা জয়ী হয়ে আসবে।

 

কিন্তু বিকালে যখন একের পর এক কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল আসতে শুরু করল তখন দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। চা বাগানের সবকটি সেন্টারে নৌকা জয়ী হতে পারল না। বড় সংখ্যক সেন্টারে ঈগল প্রতিক লিট (জয়ী) হয়ে আসছে। একই সাথে ভোটের ব্যবধানেও অনেক। তার মানে বুকে নৌকার ব্যাজ ঝুলানো থাকলেও সিল মেরেছে ঈগল প্রতিকে। আর তাতেই সুমনের নব দিগন্তের সূচনা শুরু হলো। নির্বাচন পরবর্তী মঙ্গলবার বেশ কিছু চা শ্রমিকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, চা শ্রমিকরা বরাবরই নৌকার সমর্থক।

 

মাহবুব আলী যেমন নৌকা কর্মী ব্যারিষ্টার সুমনও নৌকার কর্মী। কিন্তু মাহবুব আলীকে
আমাদের পূজা পার্বনে পাই নাই। তিনি এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে, বছরে এক বার আমাদের কোন অনুষ্ঠানে আসার সময় নেই। কিন্তু ব্যারিষ্টার সুমন ভাইকে আপদে বিপদে আমরা কাছে পেয়েছি। মাধবপুর-চুনারুঘাট ব্রীজ নির্মাণ করে দিয়েছেন, চাল দিয়েছেন।

 

আমরাতো খেটে খাওয়া মানুষ। আমরা বিপদের সময় যাকে কাছে পাই সেই আমাদের আপনজন। তাই আমরা এবার সুমন ভাইয়ের ঈগল প্রতিকে ভোট দিয়েছি। ভোটের দিন সবাই নৌকার ব্যাজ ধারণ প্রসঙ্গে তারা বলেন, এটা আমাদের কৌশলগত কারণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ